লাইপাতা শাক
Published by মিথিলেশ ভট্টাচার্য in প্রথম পর্ব, প্রথম সংখ্যা, জুলাই ২০২৫ · Thursday 31 Jul 2025 · 8:30
Tags: ছোটগল্প
Tags: ছোটগল্প
লাইপাতা শাক
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
লাইপাতা শাক খুঁজছিল ময়নুল। টাটকা, তাজা, লোকাল।
শীত পড়ার আগে কার্তিকের হালকা হিমের স্পর্শ গায়ে মেখে কোনো
কোনো বেপারির ডালায় রানীর মতো ঠাঁই করে নেয় সিজনের প্রথম শাকপাতা। তবে বেশিরভাগই
বাইরে থেকে আমদানি। শিলং, খারুপেটিয়া। লোকাল খুব কম। সকাল থেকে হন্যে হয়ে টাটকা তাজা লোকাল লাইপাতা শাক
খুঁজছিল ময়নুল।
সকাল পৌনে নটা নাগাদ সরস্বতী বিদ্যানিকেতনের ক'জন ছাত্রকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে পাড়ায় ফিরে এসে কাজলের চায়ের
দোকানের সামনে গাড়ি লাগিয়েছে। সাড়ে নটায় ডাক্তার দিদিকে মেডিকেলে পৌঁছে দিতে হবে।
মাঝখানের পঁয়তাল্লিশ-পঞ্চাশ মিনিট সময়
আর কোনো ট্রিপ মারবে না। এ'সময়টুকু চেনা-পরিচিত ইয়ার দোস্তদের সঙ্গে আড্ডা মেরে আর চা খেয়ে কাটিয়ে দেবে।
সঙ্গে চোখ থাকবে মাছওয়ালাদের দিকেও। পছন্দের মাছ দেখলে দরদাম করে কিনে গাড়িতে তুলে রাখবে। আর ফাঁক
পেলেই একটানে বাড়িতে ছুটে গিয়ে মাছের পুটলি বউ ছেলে মেয়ে যাকে সামনে পাবে তার হাতে
গুঁজে দিয়ে আবার ছুট।
হন্যে হয়ে লাইপাতা খোঁজার কারণ চ্যাংমাছ। চাতলা হাওরের দিক্
থেকে এক মাছ বেপারি খলুই ভর্তি করে মাগুর, শিং কই, বাইং ও চ্যাংমাছ নিয়ে এসেছিল। সবগুলো মাছ একসাথে খলুইর ভিতরে তুমুল হুলুস্থুল
করছিল মাঝে মাঝেই। বেশ বড় একটা টুকরিতে মাছগুলো ঢেলে দিতেই নিমেষে ক'জন খদ্দের ওকে ঘিরে ধরেছিল। এরমধ্যে ময়নুল একজন। মাঝারি
সাইজের হলদে আভা পেটের চ্যাংমাছগুলো তার খুব পছন্দ হয়ে গেছিল। বেছে বেছে সাত-আটশ
গ্রাম মাছ হলো। আর সবগুলোই নিয়ে নিয়েছিল সে। তখুনি মনে হয়েছিল নতুন বেরুনো লোকাল লাইপাতা শাক দিয়ে
চ্যাংমাছের তরকারি খাবে আজ।
কাজলের চা দোকানের সামনে গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক
দেখছিল ময়নুল। এসময় বাইসাইকেলে আর ঠেলা নিয়ে বেশ ক'জন সবজি বেপারি আউলিয়া বা আরো দূর সোনাবাড়িঘাটের দিক থেকে এ
পথে আসে। ওদের কারোর কাছে লোকাল লাইশাক পাতা থাকতে পারে এই আশায় ময়নুল অপেক্ষা
করছে। ওসব গাঁ'ঘরের কমজোরি বেপারির কাছে কখনও কখনও দু'চার আঁটি সিজনের নতুন সবজি, শাকপাত পাওয়া যায়।
কিন্তু আজ কেউ আসছিল না। ওদিকে ডাক্তারদিদির সময় প্রায় হয়ে
আসছে। ওকে মেডিকেলে পৌঁছে দেবার পর লম্বা অবসর পাওয়া মুশকিল।
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টাটকা তাজা লাইপাতা শাকের দেখা পেলনা
ময়নুল। এদিকে চারতলা বিল্ডিংএর ফ্ল্যাট বাড়ি থেকে ডাক্তার দিদিমণি বেরিয়ে এলো।
অগত্যা হতাশ মনে তাকে গিয়ে গাড়িতে বসতে হলো।
আধঘন্টাখানেক পর আবার পাড়ায় ফিরে এলো ময়নুল। আবার কাজলের
চায়ের দোকান। পরিচিত ক'জন মিলে বেশ আড্ডা জমে গেছে। পথের এ দু'পাশ বেশ জমাটি। একধারে কজন মাছঅলা মাছ নিয়ে বসে,
উল্টোদিকে দুটি সবজির দোকান আর চা দোকানের সামনে অটো,
বাইক, স্কুটির অস্থায়ী পার্কিং ষ্ট্যান্ড। আর দু'পাশের দোকান-হাট, দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির জন্য বেশ সঙ্কীর্ণ হয়ে গেছে চলাচলের পথ,
তবু কেউ কিছু বলেনা। পথচারিরা মুখেচোখে নীরব বিরক্তি নিয়ে
পথ পেরোয়,
এই চলছে নিত্যদিন। আর যার বাড়ির গেটের দু'পাশে মাছ বেপারিরা তাদের পশরা সাজিয়ে বসে সেখানে গেটের কাছে
বেশ বড় একটা শিউলি ফুলের গাছ। অজস্র ফুল ঝরে ঝরে খানিকটা পথ ফুলময় হয়ে থাকে। কিছু
ফুল গাড়ির চাকার নিচে পিষ্ট হয়, কিছু ফুল
মাছের রক্তে ভিজে যায়, তবু গাছের ফুল ফোটা ও ঝরানো এবং গন্ধ বিলোনয় বিরাম নেই!
একজন সৌম্যকান্তি বৃদ্ধলোক এসে ময়নুলের গাড়ির কাছে
দাঁড়ালেন। সে ওকে বিলক্ষণ চেনে। অনেকদিনের পুরানো পরিচিত মৃণালকান্তি দত্ত। ময়নুলের মৃণালকাকু। মাঝে মাঝে
তার গাড়িতে সওয়ারি হয়ে কাজে-কামে এদিক-ওদিক যান। যেমন আজ। ওকে দেখে আড্ডা ছেড়ে উঠে
এলো ময়নুল।
কাকু কোথায় যাবেন?
হাইওয়ের মোড় অব্দি যাব, কাজ আছে।
এখনই যাবেন?
হ্যাঁ। এখন নাতো কখন?
ঠিক আছে, উঠুন। বলে গাড়ির দরজা খুলে দেয় ময়নুল। মৃণালকাকু যেদিন তার গাড়িতে চড়েন
রিজার্ভ করে চড়েন। অন্য কাউকে নেওয়া চলবেনা।
আপ-ডাউন কম করে দুশো টাকা বাঁধা।
উনি উঠে বসতেই ময়নুল গাড়ি চালু করে। গাড়িতে কিন্তু মুখ
গোমড়া করে বসে থাকেন না মৃণাল কাকু। এটা-সেটা গল্প চলতেই থাকে। গলি থেকে মেন রোডে পড়ে প্রথম যে
গল্পটা দুজন মিলে প্রায়দিন চলে তাহল দীর্ঘদিনের মেরামতহীন মেডিকেল রোড,
পথের দু'পাশে অনেকদূর অব্দি ছোটবড় অগুনতি গাড়ির পার্কিং যার ফলে সকাল-দুপুর-বিকাল পথ
জুড়ে জ্যাম লেগেই আছে।
আজও সেই একই অবস্থা। আর তাই নিয়ে দু'জনে কথা শুরু।
হঠাৎ কথাটা মনে পড়ে গেছে ওরকম ভঙ্গিতে জ্যাম প্রসঙ্গের
মধ্যে মৃণালকান্তি ময়নূলকে জিগ্যেস করেন, হ্যাঁরে,
আমার শ্যালিকার কাছ থেকে তোকে যে একটা কথা জানতে বলেছিলাম-
কোন কথা কাকু?
ওর শাশুড়ির কথা?
না কাকু। ভুলে গেছি। কথাটা বলে একটু হাসে ময়নুল।
এ' পাড়ায় দীর্ঘদিনের পরিচিত রমা প্রথমদিন থেকেই মৃণালকান্তিকে 'জামাইবাবু' বলে ডাকে,
শুধু ডাকেই না, ওদের পরিবারের ঘরকন্নার কাজে অনেক সময় হাত বাটে এবং ওরকম ভাবে রমা ওদের
পরিবারের সকল সুবিধা-অসুবিধার একজন ভাগীদার হয়ে গেছে। কিন্তু রমার চরিত্রের প্রধান
দোষ হল প্রকৃত অর্থে তিলকে তাল করা। শাশুড়ির অসুস্থতার খবর পেয়েই পাড়ায় বলে বেড়াতে
থাকল উনি নাকি এখন-তখন। মৃণালকান্তিকেও একই কথা বলে তার বাড়ির অস্থায়ী কদিনের
রান্নার কাজ শিকেয় তুলে দিয়ে কোথায় যে উধাও হয়ে গেছিল। সেই থেকে অসুস্থ শাশুড়ি
সম্পর্কে মিথ্যা কথা রটানো রমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন মৃণালকান্তি,
কিন্তু হাতের সামনে পাচ্ছিলেন না। তবে ওকে কথা শোনানোর একটা
সুযোগ এসে গেছিল ময়নুল মারফৎ। ও-ই কদিন আগে কালীপূজার রাতে রমাদের শহর ঘুরে
দেখানোর কথা কথাপ্রসঙ্গে মৃণালকান্তিকে বলেছিল। তখন উনি ওকে বলেছিলেন,
আচ্ছা, ওকে জিগ্যেস করিসতো ওর শাশুড়ি বেঁচে আছেন না মরে গেছেন!
তা তোরা কোথায় কোথায় ঘুরলি? প্রসঙ্গ পাল্টান মৃমালকান্তি।
বলতে গেলে সারা শহরেই-জানিগঞ্জ, মালুগ্রাম-মধুরাঘাট-
বাহবা, শহরের একেবারে শেষপ্রান্তে-একটু বিস্ময় প্রকাশ করেন মৃণালকান্তি।
এবার যে সবাই মালুগ্রামেই যাচ্ছে কাকু-
কেন সেখানে কী?
সেখানে তো কলকাতার কোন হসপিটাল-ওই যেখানে লেডি ডাক্তার খুন
হয়েছিল- আরজিকর-?
হ্যাঁ হ্যাঁ। আরজিকরই। শুধু বিল্ডিং না,
ডাক্তার নার্স আর ওইযে খুন হওয়া মেয়ে ডাক্তার- তার সামনে বড়
বড় করে লালকালিতে ইংরাজিতে কী লেখা-লেখার গা থেকে আবার রক্তের ফোঁটাও ঝরছে-!
জাষ্টিস ফর আরজিকর! মগ্ন, বিষন্ন কণ্ঠে যেন চুপিচুপি উচ্চারণ করেন মৃণালকান্তি।
তিনমাসের উপর হয়ে গেল মেয়েটি বিচার পায়নি। এদেশে অত্যাচারিতা,
নির্যাতিতারা, মেয়ে-বউয়েরা বিচার পায়না-ওদের বিচারের দিনক্ষণ কেবল পিছিয়ে পিছিয়ে যায়-অভয়ারও
একই অবস্থা-!
একটুক্ষণ চুপ থেকে মৃণালকান্তি বলেন,
তা তোর দিদি তোকে কী খাওয়াল?
সবাই মিলে ভাত খেয়েছি।
সবাই মানে?
দিদি, জামাইবাবু,
দিদির মা, ছেলেমেয়ে দু'জন-
একেবারে সপরিবারে! কোন হোটেলে খাওয়াল-?
অইযে বাজারের কাছে একটা নতুন হোটেল হয়েছে 'রাধুনি' ওখানে-।
কেমন রান্না ওদের?
আছে মোটামুটি। সামান্য উদাসসুরে বলল ময়নুল।
আমরাওতো একদিন খাবো ভেবেছিলাম-মৃণালকান্তি বলেন।
ওই হোটেলে না, এন এস অ্যাভিনুউতে একটা নতুন হোটেল খুলেছে, ওখানে খাব-
ঠিক আছে, একদিন যাব আমরা-।
কথা বলতে বলতে ন্যাশনেল হাইওয়ের পয়েন্ট এসে যায়। আর এখানে
টুকিটাকি কিছু কেনাকাটা করবেন মৃণালকান্তি। ফল, অষুধ, তেলসাবান,
বিস্কুট ওসব। ময়নুল গাড়িটা দেখেশুনে পার্ক করল। এটা শহরের ব্যস্ত তেমাথা। ট্র্যাফিক পুলিশ
খুব হুঁশিয়ার। পার্কিংএর গন্ডগোল হলে মুখে কিছু বলবে না মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে
নেবে। রংপার্কিংএর জন্য ফাইন দিতে হবে সাতহাজার টাকা-!
কাকু আমি লাইপাতা নিয়ে আসি-।
এতবেলায় পাবি?
দেখি যদি পাই-।
আচ্ছা যা, দেরি করিস্ না কিন্তু-।
না না কাকু দেরি হবেনা।
কিছুসময় পর ময়নুল হাতে বেশমোটা একগুচ্ছ লাইপাতা শাক নিয়ে
ফিরল আর দোকান থেকে ব্যাগে জিনিষ নিয়ে গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালেন মৃণালকান্তি। দু'জন প্রায় একসাথে দুদিক থেকে গাড়ির সামনে হাজির।
ময়নুলের হাতে ধরা লাইপাতা শাকের গুচ্ছ দেখে খুব খুশি হলেন
মৃণালকান্তি। টাটকা, তাজা সবুজ
পুষ্ট অথচ কচি। দেখে মনে হচ্ছে এইমাত্র ক্ষেত থেকে বেপারি তুলে এনেছে।
কত নিলোরে?
চার আটি আশি টাকা।
ইস্ আগে জানলে আমি তোকে বলতাম-1
কেন আপনাকে যে আমি বললাম লাইশাক কিনতে যাচ্ছি-।
শুনেছি, কিন্তু সেরকম খেয়াল করিনি।
ঠিক আছে আমার কাছ থেকে এক আটি নিয়ে যান- বলে পাঁচছটা ছোটবড় পাতায় বাঁধা এক আঁটি লাইপাতা
মৃণালকান্তির হাতে তুলে দেয় ময়নুল। হাতে ধরে গুচ্ছ লাইপাতা শাকের দিকে মুগ্ধ চোখে
তাকান মৃণালকান্তি।
সকালবেলা কিনেছি চ্যাংমাছ, লাইপাতা শাক খুঁজছিলাম, খুব খেতে ইচ্ছা হচ্ছিল চ্যাংমাছ আর লাইপাতা শাকের
চচ্চড়ি-ময়নুল বলে।
ওর কথা শুনে আবার ফিরে মুগ্ধ চোখে তাকান সবুজ সতেজ লাইপাতা
শাক আঁটির দিকে। ডাঁটাগুলো কী পুষ্টও নরম।
কী বলল যেন ময়নুল, চচ্চড়ি! হ্যাঁ ডাঁটার চচ্চড়ি খেতে খুব ভাল লাগবে। কেমন করে জানি ময়নূলবউ
চ্যাংমাছ লাইপাতা শাক দিয়ে রাঁধবে। জানতে ইচ্ছে করে মৃণালকান্তির। ও নিশ্চয়ই
পেঁয়াজ,
রসুন আর নাগালঙ্কা দিয়ে রাঁধবে লাইশাক চচ্চড়ি। ময়নূলতো ঝাল
প্রিয়। অনেকদিন লক্ষ করেছেন মৃণালকান্তি পথের ধারে বেশ মোটা পুষ্ট সবুজ-লাল রংয়ের
নাগামরিচ সাজিয়ে বসা বেপারির কাছ থেকে উবু হয়ে বসে দামদর করে ময়নুল থলে ভরে লঙ্কা
কেনে। আর এদিকে ঝাল তিনি একেবারে খেতে পারেন না। তাঁর স্ত্রী কখনও কোনো তরকারিতে
বেশি লঙ্কা দিলে তা নিয়ে বড্ড চিৎকার-চেঁচামেচি জুড়ে দিতেন তিনি। আর তখন সহধর্মিনী
রেগেমেগে বলতেন,
তোমার মা তোমার মুখে সারাজীবন শুধু মধু ঢেলেছেন বুঝি!
ওরকম কত কথা।
লাইপাতা শাক দিয়ে চ্যাংমাছের চচ্চড়ি মৃণালকান্তির মাও
রান্না করতেন। তাতে শষ্য পেষা আর চেরা কাঁচালঙ্কা থাকত। সেই চচ্চড়ির স্বাদ এখনো
লেগে আছে জিভে। মায়ের পর তার স্ত্রীও তরকারিটা খুব স্বাদ করে রাঁধত। আর এখন বহুদিন
হল ওসব জিওল মাছের ঝাল-ঝোল কিছুই জোটেনা মৃণালকান্তির কপালে! ময়নুলের বউ নিশ্চয়ই খুব জুত করে চ্যাংমাছ রাঁধবে লাইপাতা
শাক দিয়ে। যদি ওর হাতের রান্না চাখা যেত। কথাটা ভেবে মনে মনে দাঁতে জিভ কাটেন
মৃণালকান্তি। কী সর্বনেশে কথা ভাবছেন তিনি। তার এই মনোবাসনার কথা কেউ জানতে পারলে
হুলুস্থুল বেঁধে যাবে! ওইতো কদিন আগে পাথারকান্দির কাছে চেরাগিতে কোন এক
হিন্দুস্থান হোটেলে খদ্দেরের পাতে মুরগির মাংসের সঙ্গে গোমাংস পরিবেশন করেছে
হোটেলবয় তাই নিয়ে বিরাট শোরগোল, ধুন্ধুমার কান্ড! আর এখন যদি মৃণালকান্তি ময়নুলের বউয়ের হাতে রান্না করা খাবার
খেতে চান তো আরেকটি ধুন্ধুমার কান্ড হবে এখানে। অথচ দ্যাখো,
ময়নুল আর তার পরিবার তো মৃণালকান্তির ঘরের রান্না করা জিনিষ
খাচ্ছে। এইতো সেদিন কাঁচাকলার কোপ্তা তো অনেকখানি রেঁধেছিল রান্নার মাসী,
ময়নুলকে ডেকে দিতেই সে খুশি মনে নিয়ে গেল খাবে বলে। অথচ দু'তরফে এই খাবার নিয়ে ছোঁয়াছুয়ি নিয়ে ধুন্ধুমার কান্ড বেঁধে
যায় যখন-তখন।
লাইপাতা শাকের দিকে নির্নিমেষে তাকিয়ে কতকথা,
কত স্মৃতি যে লহমায় মনে পড়ে মৃণালকান্তির। খুব করে মনে পড়ে
কিশোর ও যৌবনবেলার কথা। এসময়টাইতো মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। নতুন নতুন ঘটনা আর
অভিজ্ঞতার সঞ্চয়। তারপরতো বাকি জীবন জুড়ে শুধু স্মৃতির জাবর কাটা!
শুধু কী লাইপাতা শাক, আরও কত ভিন্ন ধরণের অচেনা-অজানা লতাপাতা দিয়ে মায়ের হাতের
রকমারি রান্না,
তার অমৃত স্বাদ। শরীর-মনের কোণে কোণে,
স্মৃতিতে তন্ন তন্ন হয়ে এখনো অবিকল সেই স্বাদ লেগে আছে,
এই মুহূর্তে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মন-প্রাণ দিয়ে যেন তা-ই
অনুভব করতে থাকেন মৃণালকান্তি!