শামুক জীবন ও আগুন পাখি
Published by শর্মিষ্ঠা মিত্র পাল চৌধুরী in প্রথম পর্ব, দ্বিতীয় সংখ্যা, অক্টোবর ২০২৫ · Friday 31 Oct 2025 · 2:00
Tags: মুক্ত, গদ্য
Tags: মুক্ত, গদ্য
মুক্ত গদ্য
শামুক জীবন ও আগুন পাখি
শর্মিষ্ঠা মিত্র পাল চৌধুরী
বুকের মধ্যে চাঙড় চাঙড় বরফের নিচে চাপা পড়া সম্পর্ক হিমঘরে থাকতে থাকতে লাশে পরিণত হয়। পাঁজরের
মধ্যে জেনারেটর থাকলে স্নায়ুতন্ত্রের অলিগলি দিয়ে উত্তাপ প্রবাহিত হয়ে বরফ গলায়। বরফের
ফাঁক-ফোঁকড় দিয়ে উঁকি-ঝুঁকি মারে আগামীর
সবুজচারা। বুনো হাঁসের দল পালকে বনজ বন্ধ মেখে সম্পর্কের চোরা বালিতে পথ হারায়। ঘাটের
প্রত্যেকটা সিঁড়ি জানে সিঁড়ি-ভাঙার গল্প। প্রত্যেকটা ঢেউয়ের অভিঘাত নিয়ে আসে
ভাঙ্গা-গড়ার সংবাদ। বাঁধানো ঘাটে ছড়িয়ে থাকে
ছাতিমের তীব্র সুবাস মাখা বিরহের কাব্যগাথা। এইসব ভাবতে ভাবতেই বাজপাখির মতো ঝুপ
করে সন্ধ্যে নামে কার্তিকের মাঠে। বিষণ্ণ বারান্দার
এক কোণে এসে দাঁড়ায় অষ্টাদশী চাঁদ। শরীরের
প্রতিটি ভাঁজে লেখা থাকে অভিজ্ঞতার গল্প। নতজানু হয়ে বসে নদীর কাছে অনুভব করতে হয়
একাকীত্ব ও বিচ্ছেদ বেদনাকে সহ্য করার অপরিসীম শক্তি। বালিকা বেলার ব্যাথাতে ভার
এবং ধার দুই ই থাকে। পরিণত বয়সে নিতিনিতি যে ব্যথা পাওয়া; তাতে শুধুই ভার আছে; কোন ধার
নেই। তাই এই সময়ে আর কিছু গায়ে লাগে না। প্রত্যেকটা ব্যথা নিয়ে কিভাবে চলতে হবে তা
যেন আগের থেকেই ঠিক করা আছে। সভ্যতার এই অগ্রগতির দায় কে নেবে? বালিকাবেলায় কাঙ্খিত মানুষটির আগমন হলে যমুনায় ঢেউ
উঠতো; শরীর তন্ত্রীতে বেজে উঠতো শ্যাম
সুন্দরের বাঁশি! অকারণে ছাদে চলে যাওয়া, আকাশের সাথে
গল্প করা, বৃষ্টিতে ভিজে কদমের সুবাস
অনুভব করত যে প্রজাপতি; আজ তার ডানা
আঘাতে-আঘাতে, কথার বিষে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন! এখন
এই দূষিত পৃথিবীতে সে কথা বলে না, হাসে না, ওড়ে না বরং মুখোশের উপর মুখোশ চাপিয়ে লিখে চলে তার
বারোমাস্যা! নরম মাটি পেলেই দাঁত-নখ দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা যেন এই নীল গ্রহের
দস্তুর! এইভাবে তার বুকের ভেতর যে ছলাৎ ছলৎ নদী আছে; তার উপর চড়ার পর চড়া পড়তে থাকে আর একদিন হঠাৎ মরুভূমিতে
সেই নদী পথ হারিয়ে ফেলে। আঁকাবাঁকা নদী পাড় ধরে যতটুকু দেখা যায় সেখানে শুধুই কোলাহল। তবুও কূল থেকে অকূলে যাবার জন্য
জীবন ডিঙিটি আমরা ভাসিয়ে দিই। বুকের ভেতর উথাল পাথাল নদী আর মেহেন্দি রঙের দুপুর
ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যায়। পাঁজর ভেঙে পাথরে পাথর ঘষে চকমকি জ্বালিয়ে দেখি চুম্বনের
কোলাজ। মহেঞ্জোদারোর অস্থির বাতাস আদ্র হয়ে যায় পুরিয়া ধানেশ্রীর আলাপে।