Go to content

পুনর্জন্ম

উত্তরসূরি
Skip menu
উত্তরসূরি
সাহিত্য পত্রিকা
Skip menu

পুনর্জন্ম

New Project 2
--ণুগল্প--
পুনর্জন্ম
শিবানী গুপ্ত
শ্রীজাতা কাপড় মেলতে ছাদে ওঠে বাবাকে একদৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয় থাকতে দেখে অবাক-- বাবা! তুমি এখানে?  আর,আমি তোমাকে খুঁজে খুঁজে হয়রাণ। কি দেখছো বাবা? আকাশ?
শোভন বাবু বলেন--হ‍্যাঁরে, এই চারপাশে এতো সুন্দর সবুজের সমারোহ, আকাশে নীল পুঞ্জমেঘের খেলা, ভীষণ ভালো লাগছে রে মা!
শ্রীজাতার খুশিতে চোখমুখ উজ্জ্বল-- জানি তো, তুমি আকাশ দেখতে, প্রকৃতি দেখতে খুব ভালোবাসো। সেই ছোটবেলা থেকেই তো দেখে আসছি, তুমি আকাশের দিকে তাকিয়ে কতো না কবিতা লিখতে। এ বাড়িটা তো আমি সেজন‍্যেই-- ও বাবা, বলোনা, তোমার পছন্দ হয়েছে তো?  
শোভন বাবু উচ্ছসিত,
আনন্দে মেয়ের মাথায় হাত রাখেন-- পছন্দ হবে না? বলিস কি মা! এতো আমার মনের পুষে রাখা একটুকরো স্বপ্নের ছবিকেই তুই সত‍্যি করে তুললি রে মা, আশীর্বাদ করি, তুই জীবনে সুখী হোস্।
শ্রীজাতা  নীচু হয়ে বাবাকে প্রণাম করে -- আমি শুধু চাই, আমার বাবার মুখে হাসিটুকু, আমি চাই, আমার বাবা আবার আগের মতন তাঁর কাব‍্যজীবনে ফিরে যান তাঁর সাধনার ক্ষেত্রে। ও বাবা, তুমি লিখবে? তোমার ডায়েরী ও কলমটা নিয়ে আসি?
শোভন বাবু বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আপনমনে কি যেন বিড় বিড় করেন-- নাহ্  থাক্ ইচ্ছে করছেনা-
শ্রীজাতা  বুঝতে পারে বাবার মনে গোপন কিছু ব‍্যথা, আর অভিমান আছে। একমাত্র ছেলে এতোটাই স্বার্থপর হলো যে, মা মারা যেতে না যেতেই বিয়ে করে বৌয়ের প্ররোচনায় বাবাকে দিয়ে  সই করিয়ে বাড়িটাই শুধু হাতিয়ে নিলোনা,
বাবাকেও বৃদ্ধাবাসে পাঠিয়ে ছাড়লো।
শ্রীজাতা এখানে থাকলে এমনটা কিছুতেই হতে দিতোনা। বিদেশে ছিলো সে। এসে সবকিছুই জানতে পারলো বৈকি। বাবার জন‍্য মন কষ্টে, মমতায় ভরে উঠলো। শ্রীজাতা নিজেই প্রচুর রোজগার করে, আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ার সে। তাই, মনের মতন করে এই বাড়িটা তৈরি করিয়েছে কেবলমাত্র বাবার জন‍্য। আজকেই সে বাবাকে নিয়ে এসেছে বৃদ্ধাশ্রম থেকে।
--ও বাবা! একটু চা খাবে,
আদা-চা, আনবো?
শোভনবাবু চোখ দুটোতে উপচে পড়া অবাধ‍্য অশ্রুর বেগ সামলে ছেলেমানুষী সরলতায় হাসেন- আদা-চা! তা পেলে মন্দ হয়না। অনেকদিন খাইনি রে। ওখানে তো এসব---
শ্রীজাতা.বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে বুকটা মোচড় দিয়ে উঠে,উদ্গত কান্নার বেগ সামলাতে দ্রুত নীচে নামতে নামতেই বলে-- তুমি আকাশ দেখো, আমি এখুনি চা নিয়ে আসছি--
শোভনবাবু শ্রীজাতার গমন পথের দিকে তাকিয়ে ভাবেন, মেয়েটা অবিকল মায়ের ধারাই পেয়েছে। যেমন মায়ের মতো দেখতে তেমনি স্নেহময়ী। ছেলেও মেয়ে দুজনকেই তো সমান লেখাপড়া শিখিয়েছেন। কিন্তু, কৈ ছেলে তো তাঁর মনের মতন হলো না!, কেবল দুঃখ, আঘাত --- যাকগে' তবু সুখে থাকুক, ভালো থাকুক, তাছাড়া, শ্রীজাতার মতো মেয়ে যার তাঁর কিসের ভাবনা? ঠিকই তো বলেছে শ্রী, আবার তিনি শুরু করবেন লিখতে-- নতুন করে নাহয় শ্রীকে নিয়েই বাঁচবেন এবার থেকে, নাহ্ অনেক সময় অপচয় করে ফেলেছেন,
আর নয়, আজ! হ‍্যাঁ,আজ থেকেই কলম নিয়ে বসতে হবে---
নাহয়, কবি-সাহিত‍্যিক শোভন সান‍্যালের পুনর্জন্মই হোক
নতুন করে  নতুন আঙ্গিকে----


Created with WebSite X5
LOREM IPSUM
Lorem Ipsum
Dolor sit amet, 12
12345 Consectetur (Adipiscing)
+00 012 345 678  | +00 012 345 678 (fax)
info@example.com
BLOG
DESIGN
Back to content